মোঃ ছায়েদ আলী
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
ভারতকে প্রথমবারের মতো পরাজিত করে যখন বাংলাদেশ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দারুণ এক জয় তুলে নিলড়তারই পরদিন সকালেই নিজের পৈতৃক ভিটে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফিরলেন জাতীয় দলের আলোচিত ফুটবলার শমিত শোম। গতকাল বুধবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি চলে আসেন চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে। আর সেখানে পরিবার তাঁকে বরণ করে নেয় পরম ভালোবাসা, মমতা ও গর্বে। ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতকে ১০ গোলে হারানোর ম্যাচে মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শমিত। তার নৈপুণ্য দলকে এগিয়ে দিয়েছে ঐতিহাসিক জয়ের পথে। শৈশবে শ্রীমঙ্গলে আসা মানেই ছিল পারিবারিক ছুটিরভিন্ন এক পরিচয়। তবে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর গত কয়েক মাসে তিনবার দেশে এলেও বাড়ি আসার সুযোগ হয়নি তার। এবার বিজয়ের আনন্দ নিয়ে পুরোনো বাড়িতে ফিরে তিনি ভাসছেন বিশেষ অনুভূতিতে। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমিত বলেন, “শ্রীমঙ্গল এসে অনেক ভালো লাগছে। এবার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে সত্যিই খুব খুশি।” শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ উত্তরসুরের সন্তান শমিত শোম। তিনি ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মানিক লাল শোমের নাতি। তার বাবা মানস লাল শোম এবং জেঠু (চাচা) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন লাল শোমশ্রীমঙ্গলের পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। কানাডায় বেড়ে ওঠা শমিত পেশাদার ফুটবলে নিজেকে তৈরি করেছেন আধুনিক প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে। সেই পথ ধরে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন শুধু শ্রীমঙ্গলের নয় সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। তার ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ভক্ত-সমর্থক শুভেচ্ছা বার্তায় ভরিয়ে দিচ্ছেন এই তরুণ মিডফিল্ডারকে। বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন তারকা শমিত শোমের এই ঘরে ফেরায় শ্রীমঙ্গলের ইতিহাসে যোগ করেছে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়।
মন্তব্য