গোদাগাড়ী প্রতিনিধিঃ মোঃ আতিকুর রহমান
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা পাড়ঘেঁষা বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে মাদক চোরাচালান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন–বিশেষ করে নদীঘেঁষা এবং দুর্গম এলাকাগুলো দিয়ে প্রতিনিয়তই ছোট-বড় চালানে মাদক প্রবেশ করছে দেশের ভেতরে। এসব চালান গোদাগাড়ী ছাড়াও আশপাশের উপজেলা, বিভিন্ন থানা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে খুব দ্রুত।
নির্বাচনকে ঘিরে চোরাচালানকারীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পোর্ট এরিয়া, এবং সীমান্তঘেঁষা ভারতীয় এলাকা—শিবগঞ্জ, কানসাট, মনাকষাসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিতভাবে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে বাংলাদেশে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিজিবি ও প্রশাসনের নিয়মিত টহল এবং নজরদারি থাকা সত্ত্বেও এ চোরাচালান বন্ধ করা যাচ্ছে না। তারা মনে করেন, কিছু দুর্বলতা কিংবা প্রভাবশালী চক্রের কারণে মাদককারবারিরা সহজেই দৌরাত্ম্য চালিয়ে যাচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“রাতে নদীপথে নৌকা দিয়ে মাল ঢোকে। দিনের বেলা আবার মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাসে করে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। টহল থাকলেও তারা পথ বদলে, সময় বদলে চালান ঢোকায়। ফলে ধরা খুবই কঠিন।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নদীপথের বিশাল এলাকা এবং বৈচিত্র্যময় রুট হওয়ায় চোরাচালানকারীদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে সময় লাগছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাদক চোরাচালান রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। অন্যথায় গোদাগাড়ীসহ উত্তরবঙ্গের বড় একটি অংশ মাদক ঝুঁকিতে থেকে যাবে বলে শঙ্কা তাদের।
মন্তব্য