ক্রাইম রিপোর্টার : মো:আতিকুর রহমান
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা গোদাগাড়ী ধীরে ধীরে মাদকের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা হেরোইন, ইয়াবা ও ফেনসিডিলের অবাধ প্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এই জনপদের সামাজিক কাঠামো। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কিশোর ও তরুণরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেটের কারণে মাদকবিরোধী অভিযান কার্যকর হচ্ছে না।
মাদকের হটস্পট হয়ে উঠছে বিভিন্ন এলাকা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোদাগাড়ী পৌরসভাসহ উপজেলার মহিশালবাড়ি, মাদারপুর, ডিমভাঙ্গা, রেলগেট, বাইপাস, এনবি মোড়, সারাংপুর, সুলতানগঞ্জ, আমতলা, লালবাগ ও হলের মোড় এলাকায় মাদক কেনাবেচা প্রকাশ্যেই চলছে। এসব এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট। সীমান্তসংলগ্ন চরাঞ্চল ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে দেশে ঢুকছে হেরোইন ও ফেনসিডিলের বড় চালান।
পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক বাস্তবতা
বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যাদের মধ্যে ৯১ শতাংশই কিশোর ও তরুণ। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাদকসেবী উচ্চশিক্ষিত হলেও কর্মহীন। গোদাগাড়ীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মাদকের প্রভাবে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। পারিবারিক কলহ, এমনকি মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে বাবা-মা নিহত হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নেপথ্যে প্রভাবশালী মহলের অভিযোগ
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার তালিকাভুক্ত কিছু মাদক ব্যবসায়ী রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান লোক দেখানো পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে। শক্তিশালী সিন্ডিকেটের চাপে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ মাদক সেবনের কারণে মৃত্যুবরণ করে। গোদাগাড়ীর অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও গভীর। একাধিক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা নীরবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক হিসাব নয়, এখন সবচেয়ে জরুরি সন্তানদের জীবন রক্ষা। যারা মাদকের গডফাদারদের রক্ষা করছে, তাদেরও এই দায় নিতে হবে।”
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অবস্থান
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ইয়াবা, আইস, হেরোইনসহ ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার করা হলেও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
মন্তব্য