ক্রাইম রিপোর্টার: মোহ:আতিকুর রহমান
১১-০২-২০২৬:
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কৃষকদলের এক নেতার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। হামলায় তার হাত-পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গোরস্তান এলাকার কালুহাটি-আড়ানী সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত বিরাজ আলী (৪৭) রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আমীর মোল্লার ছেলে। তিনি নিমপাড়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী-৬ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটে
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরাজ আলী মাঠ থেকে গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রামচন্দ্রপুর গোরস্তান এলাকায় পৌঁছালে হেলমেট পরিহিত এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তার গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের দাবি
বিরাজ আলীর বড় ভাই আব্দুল মজিদ জানান, হামলাকারীর মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। তার ভাষ্য, বিরাজের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বা রাজনৈতিকভাবে কারও প্রকাশ্য বিরোধ ছিল না। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও কোনো শত্রুতা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন
চারঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, “বিরাজ আলী কৃষকদলের সক্রিয় নেতা। তার সঙ্গে কারও বিরোধের কথা আমাদের জানা নেই। তবে হামলাকারী একই এলাকার বাসিন্দা হতে পারে বলে ধারণা করছি। কারণ পালানোর সময় তার চলাফেরা দেখে এলাকা চেনা মনে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক সহিংসতা কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পুলিশের বক্তব্য
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য