ক্রাইম রিপোর্টার: আতিকুর রহমান
২২-০২-২০২৬:
রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলা কেশরহাট পৌরসভা থেকে বাগমারা উপজেলা মচমইল বাজার পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট অবশেষে কেটে গেছে। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ বছরের পর বছর চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অবশেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে নির্মিত নতুন সেতু চালুর মাধ্যমে এলাকাবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই পথে চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও দুরূহ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভাঙাচোরা রাস্তা ও বিকল্প নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিপণ্যের পরিবহনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘গ্রামীণ সড়ক সংযোগ সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ (SupRB) এর আওতায় SupRB-Raj-Replace/23-24/W-518 প্যাকেজে সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি, মোহনপুর উপজেলা, রাজশাহী। অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম (৫৫) বলেন,
“উপযুক্ত যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের ব্যবসায় লোকসান হতো। বাজারে ফসল নিয়ে যাওয়া ছিল কষ্টকর। বর্ষায় নৌকায় পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। এখন সেতু হওয়ায় আমরা অনেক স্বস্তি পাবো।”
শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার (১৭) জানায়,
“প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে চলাচল করতাম। বর্ষায় অনেক সময় ক্লাস মিস করতে হতো। এখন সেতু হওয়ায় নিয়মিত স্কুলে যেতে পারবো।”
কৃষক মোহাম্মদ আলী (৬০) বলেন,
“ফসল সহজে বাজারে নিতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়তাম। নতুন সেতু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, কৃষকরাও ন্যায্য দাম পাবে।”
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার জানান, সেতুর অভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, যা উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। SupRB প্রকল্পের আওতায় সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ মিটার এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ৯১ লাখ ৯৬ হাজার ২২৭ টাকা। তিনি বলেন, “মানসম্পন্ন নির্মাণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে সেতুটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই সেতু দুই উপজেলার মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে সংযোগ সড়ক আরও উন্নত ও প্রশস্ত করা হলে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বাজারকেন্দ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।
মন্তব্য