ক্রাইম রিপোর্টার : মোঃ আতিকুর রহমান
২৫-০২-২০২৬:
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও রাজশাহী-এর বিভিন্ন উপজেলা ও থানার বাজার ঘুরে দেখা গেছে—অধিকাংশ দোকানে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। ফলে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী রমজানকে সামনে রেখে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মজুতদারি রোধ এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু বাস্তবে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যে বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে ইফতারসামগ্রীর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বাজারে কথা হয় কয়েকজন ভোক্তার সঙ্গে। তারা জানান, “প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম নিতে পারত না। রমজানের মতো সংবেদনশীল সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।” অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার বলছে, নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে মাসিক বাজার করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ী দাবি করেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। পরিবহন ব্যয়, সরবরাহ সংকট এবং আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন তারা। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং তা যথাযথভাবে নজরদারি করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজারে প্রশাসনের উপস্থিতি মাঝে মাঝে দেখা গেলেও তা নিয়মিত ও কার্যকর নয়। তারা চান—মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, প্রতিটি দোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি বাজারে মনিটরিং টিম বাড়ানো ও হটলাইন চালুর দাবিও জানিয়েছেন অনেকে।
সাধারণ মানুষের দাবি, রমজান মাসে যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করে জনগণকে কষ্ট দিচ্ছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জোরালো ও ধারাবাহিক তদারকি চান তারা।
রমজানের পবিত্রতা, সংযম ও সহমর্মিতার বার্তা যেন বাজার ব্যবস্থাপনাতেও প্রতিফলিত হয়—এমন প্রত্যাশা রাজশাহী-এর সর্বস্তরের মানুষের।
মন্তব্য