(এস এম এম আকাশঃ পাবনা থেকে)
পাবনা জেলা বার সমিতিড ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের উদ্যোগে সাগর কন্যা কুয়াকাটা আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। মোট চল্লিশ শিক্ষানবিশ আইনজীবী(ফলাফল প্রত্যাশী)এর মধ্যে ২৩ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশ গ্রহণে সাগর কন্যা কুয়াকাটা আনন্দ ভ্রমণ হয়ে ওঠে রোমাঞ্চকর ও উপভোগ্য। রবিবার
(২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা সাত ঘটিকায় সময় পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির আঙ্গিনা থেকে আমাদের বহনকারী কোচ নিউ সোহাগ পরিবহন ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে দাপুনিয়া বাজারে শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেশমা আক্তার রিতার স্বামী অলি আহম্মেদ (স্বত্তাধিকারী-অমা ফামেসী) আনন্দ ভ্রমণে যাওয়া সকলকে আপ্যায়ন করেন।
যথারীতি আমরা বাসে চেপে হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট, (গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী) হোটেলে রাতের খাবার গ্রহনের বিরতিতে খাবার গ্রহনের
পর রাব্বি ফিলিং স্টেশন, গণপাড়া,কাশিপুর, বরিশালে
পনের মিনিটের যাত্রা বিরতির পর আবারও যাত্রা শুরু হয়।
সোমবার ভোর সাড়ে চার ঘটিকার সময় সাগর কন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে হোটেল সাগর নীড়ের আঙ্গিনায় আমাদের কোচ (নিউ সোহাগ পরিবহন) স্টপেজ দেওয়া হয়।
সোমবার ভোরে আমরা ফজরের নামাজ আদায় করে হোটেল সাগর নীড়ে উঠি বিশ্রাম নেওয়ার জন্য, বিশ্রাম শেষে সকাল ১১ ঘটিকার দিকে নাস্তা পর্ব শেষ করে লেবুর াগান, শুঁটকি পল্লী, দক্ষিণ সুন্দরবন, ঝাউ বাগান পরিদর্শন করি। রাঘাইন পল্লী, রাখাইন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র, রাখাইন যাদু ঘর, লোকাসুখ বৌদ্ধ বিহার, বার্মিজ মার্কেট পরিভ্রমণ করে কেনা কাটা শেষ করি। দুপুরে ফ্রেশ ফ্রাই, কাঁকড়া ফ্রাই-এর মজা উপভোগ করি। সন্ধ্যায় কাঁচা মাছের বাজার গিয়ে বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছ অবলোক৷ করে রাতে খাবার শেষে হোটেলে ফিরে আসি ও রাতে সকলই বিশ্রামে ঘুমিয়ে যাই।
মঙ্গলবার(৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ফজরের নামাজ আদায় করে সুর্যোদয় দেখতে অনেকেই সাগর সৈকতে ভীড় জমায়
আবার অনেকেই ক্লান্ত দেহে ঘুমিয়ে সকাল পার করে।
যথারীতি সকালের নাস্তা শেষ করে আমরা সাগর কন্যা কুয়াকাটায় গ্রুপ ছবি তুলতে গিয়ে অনেক জনকে সংস্পর্শে পাইনি তবুও অনেকই একসাথে গ্রুপ ছবি তুলেছি স্মৃতি সংরক্ষনের জন্য। অত্র আনন্দ ভ্রমণের অতিথি সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে কাউয়ার চর, মিনি সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ করি ও টাটকা ইলিশ মাছের স্বাদ উপভোগ করি। আসর আযানের পর কুয়াকাটা জিরোপয়েন্ট ফিরে এসে আসর নামাজ আদায় করি।
পরে কুয়াকাটা কুপ, পালতোলা জাহাজ পরিদর্শন শেষে পরিদর্শন বইতে অভিজ্ঞতা নোট করে তড়িৎ ফিরে আসি
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সুর্যাস্ত অবলোকন করার জন্য।
সুর্যাস্ত দেখে তিন চক্ষুর আজন্ম নেশা নিবৃত করে সাগর পাড়ে বসে সালাতুল মাগরিব আদায় অন্তে রুমে সকলই ফিরে এসে ফোন চার্জ লোড করে লাকী কুপন করে ভাগ্য যাচাই করি। ৫০০ টিকেটের মধ্যে ২৪টা পুরস্কার নির্ধারিত ছিলো। শরিফুল ইসলাম শুভ প্রথম ও তৃতীয় পুরুষ্কার লাভ বিজয়ী হয়। মমিনুর রহমান উল্লাস দ্বিতীয় পুরুস্কার লাভ করে। মোঃ রতন চতুর্থ পুরস্কার লাভ করে। ফজলে শাহরান বিপু পঞ্চম পুরুস্কার লাভ করে। প্রিন্স ষষ্ঠ ও সপ্তম পুরস্কার লাভ করে। এছাড়াও সিনথিয়া সুরভী, সালমা খাতুন,হাবিবুর রহমান হাবিল, রাশেদ আলী সোহেল, রেশমা আক্তার রিতা,রেবেকা পারভীন শম্পা, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল ইসলাম(সুপ্রিম কোর্ট বার), আতিকুল আলম আতিক(ঢাকা বার), আরিফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুর রাজ্জাক শাকিল পুরুস্কার লাভ করে।
আনন্দ ভ্রমণে যোগদানকৃত শিশুদেরকে শুভেচ্ছা পুরুস্কৃত করা হয়।
রাত আট ঘটিকার সময় পাবনা বার সমিতির
সকল শিক্ষানবিশ আইনজীবীগন নিউ সোহাগ পরিবহনে চড়ে পাবনা
উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই।
(তারিখঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫)
লেখকঃ
এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ)
শিক্ষানবিশ আইনজীবী,
পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত,
পাবনা।
মন্তব্য