প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী যিনি আত্মায় মান্যবর ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক।।
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১০:১২ অপরাহ্ণ

সৈয়দা রাশিদা বারী

মানব মনে এবং আত্মায় মানবী মান্যবর ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তি, বেগম খালেদা জিয়া! এমন এক অনন্ত ব্যক্তির অনন্ত কালে চলে যাওয়া! তারপরও এমন একটা সময়ে, যখন দেশ ভাসছে সামনের ইলেকশন নির্বাচনকে ঘিরে! সেটাও এক শ্রেণীর দ্বিধাদ্বন্দ্বে বললেও বলা যায়! আজ বেগম খালেদা জিয়ার মতন মায়াবী মানবী মনীষীর চলে যাওয়া, হারিয়ে ফেলা, দেশ ও জাতির জন্য অপুরোনীয় ক্ষতি! এই বিশেষ ব্যক্তির সংগ্রাম, রাজনৈতিক প্রতিভা জন্ম পরিবার ও শৈশব সম্পর্কে যেমন:
বেগম খালেদা জিয়া জন্ম গ্রহণ করেন ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ বা ১৯৪৬ সালে। তখনকার জলপাইগুড়ি, ব্যালগঞ্জ প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত-এ, যা পরে দিনাজপুর হয়ে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হয়। তাঁর জন্মকালে তাঁর প্রকৃত নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল। তিনি পরিবারের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান ছিলেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন ব্যবসায়ী ও চা বাগানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মা তৈয়েবা মজুমদার একজন সুগৃহিণী ছিলেন। খালেদা জিয়ার পরিবার ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের পরদিন দিনাজপুরে এসে স্থায়ী হওয়া। তার শৈশব কাটে দিনাজপুরেই, যেখানে তিনি দিনাজপুর মিশনারি স্কুলে অধ্যয়ন করেন এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যান।
ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্ক: ১৯৬০ সালের দিকে, খালেদা পুতুল সেনা ক্যাপ্টেন ও বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের নেতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর তিনি খালেদা জিয়া নামে পরিচিত হন। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তারা দুই সন্তান, তারিক রহমান এবং অকাল মৃত্যুবরণ করা আরাফাত জিয়াকে পেয়েছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশ:
খালেদা জিয়া শুরু থেকে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না বরং তিনি একটি সুগৃহিনী নারী হিসেবেই ছিলেন। স্বামী-সন্তান নিয়ে পরিবারে সংসারের দায়িত্ব পালন করতেন। তবে ১৯৮১ সালে তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর জীবন এক অভূতপূর্ব মোড় নেয়। এর পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গণে সক্রিয় হন। ১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং এর পর থেকে দীর্ঘ সময় বলতে আমৃত্যু বলা যায় তিনি দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দলের সবাই তাকে চেয়ারপারসনের আসনে রেখেই কাজ করে গেছেন! আলহামদুলিল্লাহ! তিনি বাংলাদেশের এমন একজন আল্লাহর আশীর্বাদ, ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তি ছিলেন আমৃত্যু! যিনি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্র, সূর্য সন্তান তিনি! রত্নগর্ভা!সমাজে নারী হয়েও, তিনি একজন মহীয়সী নারীই বটে! এদেশের নারীরা তাই ধন্য কৃতজ্ঞ! প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব: বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ ইং,
২০০১ থেকে ২০০৬ ইং,
এছাড়াও মাঝের সময়ে তিনি বিরোধী দলনেতা ছিলেন একজন নারী হয়েও এত বড় দায়িত্বে! ১৯৯১-এর নির্বাচনে তিনি প্রথম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক শাসন থেকে পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শাসনামলে শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্ষুদ্র শিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতির সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সমাজে নারীর ভূমিকা ও শিক্ষা প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি বেগম রোকেয়া পদক সরকারিভাবে, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক, নারীর উন্নয়ন উন্নতির স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া চালু করেছিলেন। রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বিরোধিতায় একসময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ নেত্রী
খালেদা জিয়ার রাজনীতিকে ছাপিয়ে গেছে তার দীর্ঘ ও তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বাংলাদেশের আরেক প্রভাবশালী নারী নেতা শেখ হাসিনা। যিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি। বেগম খালেদার গভীর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন। তাদের দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক দীর্ঘ অধ্যায় হয়ে আছে। এইটা কিন্তু বিশ্বের নারী সমাজের জন্য শ্রেষ্ঠতম গর্বের! আমরা সব নারী প্রধানমন্ত্রীকে একত্রিত করলেই এর গুরুত্ব বুঝতে পারি। বুঝতে সবাই পারবে। একটা জরিপ প্রধানমন্ত্রিত্বের উপরে একটা আদমশুমারি করলেই, ধরা পড়বে, এ পর্যন্ত পৃথিবীর কতগুলো রাষ্ট্রের প্রধান রাষ্ট্রত্তে, কতগুলো দেশনেত্রী দেশনেতা, রাষ্ট্রপ্রধান প্রধানমন্ত্রী পুরুষ এবং কতগুলো নারী?!! নারীর স্থান অবস্থানে এই শূন্যস্থানটা পূরণ বলছি না তবে সংখ্যায় বৃদ্ধি তো অবশ্যই হয়েছে। একদিকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকেও বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থান পৃথিবীর উপরে নারী প্রধানমন্ত্রীর স্থান অনস্বীকার্য। অবশ্যই গণনার সংখ্যায় দাঁড়িপাল্লা পাল্লা ভারী হয়েছে! বেগম খালেদা জিয়া নারীর রাজ টিকা! তার কর্মকালেও দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্দোলন, বিরোধিতা ও সমর্থন, সব মিলিয়ে একটি তীব্র রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল! যা আজও ইতিহাসে গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হয়। আসলেও কথায় আছে, অধিকার কেউ কারো দেয় না, অধিকার জোর করে আদায় করে নিতে হয় নিজ যোগ্যতায়। পুরুষের ক্ষেত্রেও পৃথিবীর ইতিহাসে বড় কাজগুলো এভাবেই হয় এবং হয়েছে! আমরা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্রাট আওরঙ্গজেব, সম্রাট শাহজাহান, সাম্রাজ্ঞী নূরজাহান আরো প্রভৃতি অধ্যায় থেকে যেটা আহরণ করতে পারি! পুত্র হয়েও পিতাকে, ভাই হয়েও বোনকে বন্ধি রেখেছেন এই রাজনৈতিক ইতিহাসই সেই সাক্ষী বহন করছে!! নানাজানের ইতিহাস খুজলে ঠিকই লক্ষ্য করতে পারি। আসলে বড় কাজে বড় ঝুঁকি তাই এগুলোই হয়। বিশেষ করে সমসাময়িক উত্তেজনা ছাড়া, দ্বন্দ্ব প্রতিদ্বন্দ্ব প্রতিযোগিতা ছাড়া, কোন বড় কাজ হয়নি আজ পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে।
চ্যালেঞ্জ, বিতর্ক ও সমালোচনা:
খালেদা জিয়াও তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগের মুখোমুখি হন, বিশেষ করে দুর্নীতি মামলায়। এই মামলাগুলোর ফলে তিনি কিছু সময় কারাগারেও ছিলেন। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে সর্বশেষ মামলাটি থেকে মুক্তি দেয়। আলহামদুলিল্লাহ! যে তিনি মামলা মুক্ত অবস্থায় আল্লাহর কাছে গেলেন! রাজনৈতিক প্রচারণা ও বিরোধীদের ভিন্ন মতামতের কারণে, তাঁর শাসনামল ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সমালোচনা ও সমর্থন দু’ইই সমানভাবে ছিল। অনুমান করা হয়, তিনি মামলার আসামি হয়ে জেলে অবস্থান না করলে, সুস্থ হয়ে থাকতেন। হয়তোবা এত দ্রুত এত তাড়াতাড়ি অসুস্থ হতেন না। এমন জটিল রোগে আক্রান্ত হতেন না! ডাইবেটিস কিডনি লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, ফুসফুসের- সংক্রমণ শ্বাসকষ্ট! এই আক্রান্ত থেকে আর মুক্তি পেলেন না!
শেষ দিন ও মৃত্যু
বেগম খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, ভোর ৬টায়, ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন! ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন! ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ৯০ বছরও সুস্থ মতো মানুষ বাঁচে আল্লাহ বাচালে। উনি যদি আরও কিছুদিন বাচতেন তবে এদেশের নারীদের জন্য ভালো হতো। তবে একজন নারীর ভালো হওয়া মানে ভালো থাকা মানে, পরিবারের সব পুরুষেরও ভালো থাকা। নারীর মুক্তির মধ্যে সমাজের পুরুষেরও মুক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে রয়েছে! অতএব লাভবান হত দেশ সমাজ ও পরিবারের নারী পুরুষ উভয়ে! বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তাঁকে এক উপযুক্ত মর্যাদায় স্মরণ করছে, বাংলাদেশের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে, নারী পুরুষ জাতি ধর্ম বর্ণ দলমত নির্বিশেষে! সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিত্ব ও উত্তরাধিক্য খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং BNP-এর দীর্ঘমেয়াদি নেতা ছিলেন! যিনি দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রাম বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে! বহির বিশ্ব থেকেও গৌরব পুড়িয়েছে! আধুনিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
উপসংহার:
বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত জটিল, ব্যস্ত এবং কঠিন রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্র থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক নেত্রী, তীব্র সমালোচনা-সমর্থনের মুখোমুখি, এবং সবশেষে বিরাট জনসমর্থনের এক নেতা হিসাবে গণ্য মান্য পরিপূর্ণ নেত্রী! আল্লাহর থেকে পাওয়া সকলের শান্তির প্রতীক আশীর্বাদ তিনি!! শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত তিনিই সব মানুষের একমাত্র আশা ভরসা সান্তনার বাণী হিসেবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বলা বাহুল্য যেন বিজয়ীনী অবস্থানেই অবস্থিত ছিলেন!! কেননা তার সম্মানের বিপক্ষে কথা বা মতামত বিনিময়, ইচ্ছা প্রকাশ কেউ কলেন নাই, বলেন নাই! গবেষণার খাতায় এবং পাতায় সেই ভিজিট আমি যথাসাধ্য করেছিলাম! মহান আল্লাহর কাছে আমি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি মাগফিরাত এবং বেহেশত নসিব কামনা করছি। আমিন।

৩০.১২.২০২৫ ইং, সকাল ১০ট, মঙ্গলবার।

চেয়ারমানঃ মোঃ সোহেল রানা

হেড অফিসঃ পুরান পল্টন, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০। জিমেইলঃ visionstv24@gmail.com মোবাইলঃ ০১৮১০-৫৫২৪৪৬

প্রিন্ট করুন